নদী ভরে উঠলেই শুরু হয় বাইচ। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ হয় বর্ষা আর শরতে, ইংরেজি মাসে জুন থেকে অক্টোবর। পাড়ে ভিড় জমে, ঢোল তাল রাখে, আর রঙিন লম্বা নৌকাগুলো নদী চিরে ছুটে যায়।
নৌকাগুলো
দেশের একেক অঞ্চলে একেক রকম নৌকার বাইচ:
- ময়মনসিংহ, পাবনা আর ঢাকায় কোষা নৌকা
- ঢাকায় গয়না নৌকা
- সিলেট, কুমিল্লা আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সারেঙ্গি নৌকা
- চট্টগ্রাম আর উপকূলের জেলাগুলোতে সাম্পান
নৌকাগুলোর নাম হয় জমকালো, গতি জাহির করার মতো। মাঝিদের একটা দল সাতজনের মতো ছোট হতে পারে, আবার একশো জনের মতো বড়ও, সবাই একসাথে টানে।
গান
মাঝিরা গায় সারি গান, যে গান বৈঠার তাল ঠিক রাখে আর দলের মন চাঙা রাখে। একটা প্রিয় গানে আছে রঙিন নৌকার রঙিন বৈঠার কথা। নৌকা যত জোরে ছোটে, গান তত জোরে ওঠে।
পুরোনো ঐতিহ্য, এখনো চলছে
গ্রামবাংলায় নৌকা বাইচের ইতিহাস কয়েকশো বছরের। আঠারো শতকে নবাব পরিবারগুলো বাইচের আয়োজন করত, তখন থেকে শহরেও এটা জনপ্রিয় হয়, আর ব্রিটিশ আমলেও সিলেটে বাইচ চলত নিয়মিত। আজ বাংলাদেশে নৌকা চালনার খেলা দেখে বাংলাদেশ রোয়িং ফেডারেশন, যার শুরু ১৯৭৪ সালে।
বাইচ দেশের বাইরেও গেছে। প্রতি বছর বার্মিংহামে হয় তাদের নিজেদের নৌকা বাইচ, যাকে উইকিপিডিয়া যুক্তরাজ্যে এ ধরনের সবচেয়ে বড় বাইচ বলে। সিলেটের কোনো নদীর পাড়ে বড় হয়ে এখন ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে থাকলে, নদীটাও তোমার সাথে চলে এসেছে।
নিজেই বাইচ দাও
আমাদের নৌকা বাইচ তোমাকে নৌকায় বসিয়ে দেয়। নদীর বাম আর ডান অর্ধেকে আঙুল নিচে টেনে বৈঠা মারো, গাছের গুঁড়ি, জাল আর খেয়া এড়িয়ে চলো, আর তিনটা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সাথে পতাকার দিকে ছোটো। জিতলে পরের, আরও লম্বা নৌকাটা তোমার, ছোট্ট ডিঙি থেকে কয়েক ডজন মাঝির নৌকা পর্যন্ত। অথবা একটা লিংক পাঠিয়ে বন্ধুদের সাথে একই নদীতে একই সময়ে বাইচ দাও, তারা যেখানেই থাকুক।