মুহূর্তটা তোমার মনে আছে। ফ্যানটা আস্তে হয়ে আসে, বাতি নিভে যায়, আর পুরো গলি একসাথে "আহ!" করে ওঠে। তারপর কেউ মোমবাতি খুঁজে আনে, কেউ লুডুর বোর্ড, আর সন্ধ্যাটা হয়ে ওঠে আরও ভালো কিছু।
মোমের আলোয় চোর-পুলিশ
লাগে শুধু চারজন আর চার টুকরো কাগজ। লেখো রাজা, মন্ত্রী, চোর আর পুলিশ, ভাঁজ করো, মেঝেতে ছুড়ে দাও, আর সবাই একটা করে তোলো। রাজা নিজের পরিচয় দেয়, পুলিশকে বের করতে হয় কে চোর, আর নম্বর লেখা হয় এমন এক টুকরো কাগজে যা পরে আর কেউ খুঁজে পায় না।
একেক বাড়িতে নম্বর ছিল একেক রকম। উইকিপিডিয়ার সংস্করণে রাজা ১০০০, মন্ত্রী ৫০০, সিপাহি ১০০ আর চোর ০, আর চোর খোঁজে মন্ত্রী। আমাদের খেলায় রাজা পায় ১০০০, মন্ত্রী ৮০০, পুলিশ ৫০০ আর চোর কিছুই না, যদি না পুলিশ ভুল ধরে।
লুডু, আর তার অন্য পিঠ
ভাঁজ করা বোর্ডটা দুই কাজ করত: এক পিঠে লুডু, অন্য পিঠে সাপ লুডু। লুডু মানে জোট, বিশ্বাসঘাতকতা, আর ছক্কা পড়লে আবার চাল পাওয়া যায় কি না তা নিয়ে চিরকালের ঝগড়া। সাপ লুডু ছিল পুরোটাই ভাগ্যের খেলা, আর ঠিক সেজন্যই ছোট ভাইয়েরা এটা এত ভালোবাসত। লুডু বাক্সবন্দী খেলা হয়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছায় ১৮৯০-এর দশকে, আর সাপ লুডু এসেছে পুরোনো ভারতীয় ছক্কার খেলা থেকে। আমাদের বাড়িতে অবশ্য দুটোই আসত আলমারি থেকে।
কারেন্ট ফিরলে ক্যারম
ক্যারম বোর্ড মোমের আলোর জন্য বড্ড দামি, তাই সে অপেক্ষা করত। কারেন্ট ফিরলেই বোর্ড বের হতো, পাউডার ছড়ানো হতো, আর রানি কভার হলো কি না সেই তর্ক চলত রাতের খাবার পর্যন্ত।
আবার খেলো
সবগুলো এখানে আছে, তোমার মনে থাকা বাড়ির নিয়মসহ: চোর-পুলিশ, লুডু, সাপ লুডু আর ক্যারম। কম্পিউটারের সাথে খেলো, এক ফোন হাতে হাতে ঘুরিয়ে খেলো, অথবা বোর্ডের ওপাশে বসা সেই চাচাতো-মামাতো ভাইবোনদের লিংক পাঠাও, তারা এখন লন্ডন বা নিউ ইয়র্কে থাকলেও।
মোমবাতি লাগবে না।